বহুল চর্চিত মোথবাড়ি কাণ্ডে অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেলেন অভিযুক্ত তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক আকরামুল বাগানি সহ একাধিক অভিযুক্ত। কলকাতা নগর দায়রা আদালতের বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত তাঁদের সবকটি মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করেছে বলে জানা যায়। চারটি পৃথক মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁদের জেল থেকে মুক্তির পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর আদালত এই রায় দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে অভিযুক্তদের পরিবার।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে মালদার কালিয়াচক-২ ব্লকের মোথবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন ও স্ক্রুটিনি (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, স্ক্রুটিনি তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় উত্তেজিত জনতা ব্লক অফিসে চড়াও হয় এবং কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭ জন বিচার বিভাগীয় অফিসারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্থা ও ঘেরাও করে রাখে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভর্ৎসনা করেছিল।
ঘটনার পরই এই কাণ্ডে নাম জড়ায় সাবেক মিম (AIMIM) নেতা তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের। এরপর সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাজ্য পুলিশ, সিআইডি এবং শিলিগুড়ি পুলিশের যৌথ দল বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ও তাঁর সহযোগী আকরামুল বাগানিকে গ্রেফতার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও তৎক্ষণাৎ মোফাক্কেরুলকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন ও আদালতেঘটনার পরই এই কাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম জড়ায় সাবেক আইমিম (AIMIM) নেতা তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের। ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাজ্য পুলিশ, সিআইডি এবং শিলিগুড়ি পুলিশের যৌথ দল বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ও তাঁর সহযোগী আকরামুল বাগানিকে গ্রেফতার করে।
নির্বাচন কমিশন ও আদালতের নির্দেশে এরপরই এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। চলতি জুনের শুরুতেই বিশেষ এনআইএ আদালতে এই ঘটনার চারটে মামলার চার্জশিট দাখিল করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। চার্জশিটে এনআইএ দাবি করেছিল, বিচারকদের অবরুদ্ধ ও হেনস্থা করার এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ‘পূর্ব-পরিকল্পিত’ ছিল এবং ভিড় জমাতে আগে থেকেই লাউডস্পিকার ও অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার নিম্ন আদালতে মোফাক্কেরুলের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে বিশেষ এনআইএ আদালতে সবকটি মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আগামীকালই জেল থেকে মুক্ত হতে চলেছেন মোফাক্কেরুল ও তাঁর সহযোগীরা।

