রাজ্যের নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মনে উৎসাহ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক বিশাল আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে আসছে। বিশেষ করে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে বা যারা নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শোনালেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অন্যদিকে, এই ৩৫ লক্ষ মানুষের অধিকার নিয়ে এবার সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস, যার জল গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ নিয়ে অত্যন্ত কড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছিলেন, তাঁরা নতুন প্রকল্পে টাকা পাবেন ঠিকই, কিন্তু তার আগে সুবিধাভোগীদের তালিকা খুব নিঁখুতভাবে যাচাই করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছেন সেই সব মানুষ, যাদের নাম এসআইআর (SIR) তালিকায় বাদ পড়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হওয়ার কথা। তবে যাদের নাম ভোটার তালিকা বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ বা ডিলেট হয়ে গেছে, তাঁদের আর এদেশের বৈধ নাগরিক বা ভোটার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। ফলে তাঁরা সরকারি প্রকল্পের আওতার বাইরে চলে যাবেন। অর্থাৎ, যিনি মারা গেছেন কিংবা যারা আমাদের দেশের নাগরিক নন। তাঁরা পাচ্ছেন না সুবিধা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিবিটি (DBT) বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর আগে কোনোভাবেই ‘অযোগ্য‘ কাউকে সুবিধা দেওয়া হবে না। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, যারা এসআইআর-এর কারণে নাগরিকত্বের বৈধতা হারিয়েছেন, তাঁরা সরকারি কোষাগারের এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন। বর্তমানে প্রশাসন খতিয়ে দেখছে যে, এসআইআর-এ নাম কাটা যাওয়া কতজন ব্যক্তি বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের নাম বর্তমানে এসআইআর ও ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যেখানে নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে লড়াই করছেন, সেখানে চূড়ান্ত রায় আসার আগেই তাঁদের ‘অ-নাগরিক‘ তকমা দিয়ে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

