এবার আর টেট পাস না করলে চাকরি নেই। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টেট (TET) পাস করাকে একেবারে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যাঁরা এখনও টেট পাস করেননি, তাঁদের আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। ৩১ আগস্ট ২০২৮ এর মধ্যে সব কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে টেট পাস করতেই হবে। আদালত আগের সময়সীমার থেকে আরও এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে যাতে শিক্ষকরা প্রস্তুতি নিতে পারেন।
এ দিন বিষয়ে আদালত কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছে, যাঁদের চাকরির বয়স ৫ বছরের কম, তাঁদের শুধু চাকরি চালিয়ে যাওয়ার জন্য টেট পাস করতে হবে না। কিন্তু পদোন্নতি চাইলে তাঁদেরও টেট পাস করতেই হবে।
এছাড়াও যাঁদের চাকরি ৫ বছরের বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে টেট পাস একেবারে বাধ্যতামূলক। টেট না পাস করলে বা পরীক্ষায় না বসলে চাকরি ছাড়তে হবে। তবে সেক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি অবসরকালীন সুবিধা (পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি) পাবেন।
এখন থেকে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকতা করতে গেলে টেট পাস ছাড়া দরকার। ফলে যাঁরা এখনও টেট দেননি, তাঁদের জন্য আগামী দুই বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রের খবর, আদালতের এই রায়ের জেরে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নতুন করে টেট পরীক্ষায় বসতে হবে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) ও এনসিটিই (NCTE)-র পুরনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষক প্রয়োজনীয় টেট যোগ্যতা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বাংলার ক্ষেত্রে এই জটিলতা আরও গভীর। কারণ, রাজ্যে প্রথম টেট পরীক্ষা শুরুই হয়েছিল ২০১১ সালের জুলাই মাসে। ফলে ২০১১ র আগে নিযুক্ত বহু প্রবীণ শিক্ষক যাঁরা দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে আসছেন, তাঁরা স্বাভাবিক নিয়মেই কোনওদিন টেট দেননি।

