কোচবিহারের দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের পোয়াতুরকুঠি এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ১১ বছর বয়সী ছাত্রীর নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাটক্ষেত থেকে ওই ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র জনরোষ দানা বেঁধেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই নাবালিকার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী দিনভর তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো হদিশ পাননি। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বাড়ি সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতের মধ্যে ওই ছাত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ডিএসও (AIDSO)-র কোচবিহার জেলা কমিটি। সংগঠনের জেলা সম্পাদক আসিফ আলম এক বিবৃতিতে বলেন, “পোয়াতুরকুঠিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর এই রহস্যজনক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বর্তমান সমাজব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাজ্যে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।”
