সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতার ওপর ফের একবার কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি বিকাশ ভবনের অ্যাডমিন সেকশন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিক্ষা অধিকার আইন (RTE Act, 2009) এর ২৮ নম্বর ধারা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে সমস্ত শিক্ষক এখনও বেআইনিভাবে প্রাইভেট টিউশন চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) থেকে রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে একটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগে দাবি করা হয়, সরকারি স্কুলের কিছু শিক্ষক আরটিই আইন ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বহাল তবিয়তে প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী তাদের কাছে টিউশন পড়ে না, পরীক্ষার খাতায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার মতো প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিকে শিক্ষা অধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং সাধারণ গৃহশিক্ষকদের রুজি-রোজগারে আঘাত হিসেবে দেখছে কমিশন।
শিক্ষা দফতরের জারি করা ৪ জুনের এই বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৯ সালের শিক্ষা অধিকার আইনের ২৮ নম্বর ধারার পাশাপাশি, ২০১১ এবং ২০১৮ সালের রাজ্য শিক্ষা দফতরের পুরনো দুটি নির্দেশিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি বা সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগতভাবে টিউশন বা কোনো কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের জন্য স্কুলের অভ্যন্তরে কোনো বিশেষ অতিরিক্ত ক্লাসের (Remedial Coaching) আয়োজন করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা অবশ্যই সহযোগিতা করতে পারবেন।
এই নির্দেশিকা পাওয়ার পর রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI – SE & PE) নিজ নিজ এলাকায় কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আসা এই ধরণের সমস্ত অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিকাশ ভবন। উল্লেখ্য, এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।
