খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ২০২১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার ডঃ বুশরা বানুকে। চলতি বছরের ১ জুলাই তিনি খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে যোগদানের মাত্র ২ মাস ১০ দিনের মাথায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক নির্দেশিকায় তাঁকে স্টেট আর্মড পুলিশ (SAP) এর ৪র্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হলো। প্রশাসনিক মহলে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ বলা হলেও, কার্যকালের এই স্বল্প মেয়াদ এবং ঠিক তার আগেই তৈরি হওয়া ভিডিও বিতর্ককে কেন্দ্র করে ওয়াকিবহাল মহল একে ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ বলেই মনে করছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের ওই একই বিজ্ঞপ্তিতে পার্থ ঘোষ এবং শুভেন্দু মণ্ডল নামের আরও দুই আধিকারিকের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে পুলিশের উর্দিতে হাজির হয়ে ডঃ বুশরা বানুকে বলতে শোনা যায় যে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং অ্যাকাডেমি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কতটা সাহায্য করে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী হিসেবে তিনি নিজেও সেখান থেকে কীভাবে উপকৃত হয়েছেন, সে কথাও তিনি জানান। ভিডিয়োর মূল বক্তব্যে কোনো আপত্তি না থাকলেও, তাঁর বার্তার শুরুতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং শেষে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’-র মতো ধর্মীয় শব্দ চয়ন করা নিয়েই শুরু হয় যত গোলযোগ।
‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই ভিডিয়োর ক্লিপিং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরাসরি প্রশ্ন তোলে— একজন সরকারি আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে এবং সরকারি পদকে সামনে রেখে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে পারেন? এমনকি ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো প্রচলিত স্লোগান কেন তাঁর বার্তায় অনুপস্থিত ছিল, সেই প্রশ্নও তোলে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও ওই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অন্যদিকে, ‘মুসলিম আইটি সেল’ নামের অপর একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে পাল্টা দাবি করা হয় যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণেই বুশরাকে সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করছে ওই সংগঠনগুলি।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের কনৌজের নিবাসী বুশরা ২০২১ সালে আইপিএস হওয়ার আগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে তিনি প্রথমে কোল ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। এরপর চাকরি করতে করতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে ভারতীয় রেলের ট্রাফিক সার্ভিসে নিযুক্ত হন। পরে উত্তরপ্রদেশের রাজ্য প্রশাসনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মহকুমাশাসক (SDM) এর দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তী সময়ে ফের ইউপিএসসি পাশ করে সরাসরি পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। দুই সন্তানের জননী হয়েও তাঁর এই পরপর দুই বার ইউপিএসসি জয়ের সাফল্যের গল্প অতীতে দেশজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন