কলকাতার নিউটাউনে ‘ইন্ডিয়ান এনার্জি উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। এই বৈঠক থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন অর্থাৎ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও সরাসরি বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যখন শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে, তখন শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারি এবং এর বিপরীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আগের আইনি অবস্থান গোটা বিষয়টিকে একটি বড়সড় বিতর্কের জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোনো রকম আড়াল না রেখে স্পষ্ট ভাষায় ওনার অবস্থান জানিয়ে বলেন, “খুবই স্পষ্ট শুনে রাখুন, যারা যাদের নাম এস আই আরে বাদ চলে গেছে তারা ভারতীয় নয়।” তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, সংশোধিত তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
এরপর তিনি আরও কড়া সুরে বলেন, “তারা রেশন যেমন পাবেন না ওল্ড স্পেনশন ও পাবেন না।” অর্থাৎ, এই তালিকায় নাম না থাকলে রাজ্য বা কেন্দ্রের কোনো রকম রেশন সুবিধা এবং বার্ধক্য ভাতা পাওয়া যাবে না। এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “উজালা এক দুই পিউরিফাই করার কাজও আমরা করব।” যার অর্থ, ‘উজ্জ্বলা ১’ এবং ‘উজ্জ্বলা ২’ গ্যাস সংযোগের তালিকাও পুরোপুরি স্ক্রিনিং করে ভুয়ো ও অবৈধ উপভোক্তাদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে।
এই অবৈধ নাগরিকদের তালিকা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “প্রপারলি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট অর্গানিজেশন কে আমরা জানিয়ে দেবো।” রাজ্য সরকার এই ডেটা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অফিশিয়ালি রিপোর্ট করবে, যাতে জাতীয় স্তরেও তাদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ব্লক করে দেওয়া যায়।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস যে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে, এই নামগুলি সরকার বা বিজেপি বাদ দেয়নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া হুঁশিয়ারির বিপরীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কিন্তু আগে থেকেই সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি বড় সুরক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে, এসআইআর (SIR)-এর পরে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাওয়া মানেই তিনি নাগরিক নন, এমনটা বলা যাবে না। শীর্ষ আদালতের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অর্থ হলো কেবল ওই নির্দিষ্ট তালিকায় ভোট দেওয়ার অধিকার হারানো, কিন্তু এর মাধ্যমে কারও জাতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। আদালত আরও ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে কাউকে রেশন বা অন্যান্য মৌলিক সরকারি সুবিধা থেকে হুট করে বঞ্চিত করা যায় না।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
