ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। সেপাহিজলা জেলার কলমচৌড়া থানাধীন আশাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় বিএসএফ ও পাচারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন বিএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, সংঘর্ষে আন্দোলনকারীদের একাংশও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুরের খবরও সামনে এসেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা আশাবাড়ি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে সশস্ত্র পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের (টিএসআর) সদস্যদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনাকে নৃশংস আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের উপর এ ধরনের হিংসাত্মক হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর যে কোনও আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আইনের আওতায় এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা সর্বোচ্চ সম্মান ও সুরক্ষার দাবিদার বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, গত এক বছরের মধ্যে ত্রিপুরায় বিএসএফের উপর হামলার এটি দ্বিতীয় ঘটনা বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে সেপাহিজালা জেলার বিশালগড় বাজারে একটি গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিএসএফের চারজন জওয়ান ও একজন আধিকারিক আহত হয়েছিলেন। পরপর এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
