কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ রাজ্য। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর দুর্গাপুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকার এবং সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতরের যাবতীয় কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের পুজো সংক্রান্ত পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিও।
এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আহতরা যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাইবেন, তাঁদের সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আর্জি জানাবে রাজ্য সরকার। এ জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাই গোটা ঘটনায় কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা (ARS) ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক, অস্থায়ী হোমগার্ড, পুলিশকর্মী কিংবা বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কারও কাজে গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেখানে ফরেনসিক দল, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ও দমকলের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মণ্ডপের নকশা, নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, পুজোর থিম বা মণ্ডপের সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ফলে মণ্ডপের ভিতরে অন্ধকার রাখা কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও ত্রুটি থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
চোরবাগানকাণ্ডের পর রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তার জবাবে অতীতের কয়েকটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালে কলকাতায় অতিবৃষ্টির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু এবং দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে হড়পা বানের ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এখন জরুরি। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দুর্ঘটনায় শিশু-সহ মোট ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দাদের দেহ তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
