২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দামামা বাজার ঠিক আগেই বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিবর্তন। আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোস পদত্যাগ করলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছরের কার্যকাল শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা এই খবর আসে জনসম্মুখে।
বোস নিজে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, “আমি রাজভবনে যথেষ্ট সময় কাটিয়েছি।” যদিও এই পদত্যাগের খবর শুনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীরভাবে শকড ও উদ্বিগ্ন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট করে বলেন, “আমি রাজ্যপাল শ্রী সি. ভি. আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের খবরে অত্যন্ত অবাক ও চিন্তিত। তার পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা অবাক হওয়ার মতো নয় যে, আসন্ন পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্দ্র তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপে তাকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করতে বলা হয়েছিল।”
মমতা আরও বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে জানিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে বাংলায় পাঠানোর আগে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও ন্যূনতম সৌজন্যমূলক আলোচনাও করেনি কেন্দ্র। তাঁর মতে, এটি সংবিধানের চেতনা ও সহযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার ওপর সরাসরি কুঠারাঘাত।
কে এই আর. এন. রবি? উদ্বেগের কারণ কী?
জানা গেছে, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক আর. এন. রবি তাঁর প্রশাসনিক কড়াকড়ির জন্য সুপরিচিত। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন সেখানে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জাতীয় রাজনীতির শিরোনাম কেড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে একজন ‘কড়া মেজাজের’ প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে রাজভবনে বসিয়ে নবান্নের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে মোদী-শাহ জুটি।
রাজ্যের বিরোধী শিবির বিজেপির পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনকে ‘স্বাভাবিক’ তকমা দেওয়া হলেও, তৃণমূলের অন্দরে ত্রাসের সঞ্চার হয়েছে। রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের দীর্ঘদিনের অম্ল-মধুর সম্পর্ক কি এবার চরম সংঘাতের দিকে মোড় নেবে? আর. এন. রবির আগমনে বাংলার প্রশাসনিক ও নির্বাচনী পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিতে পারেন রবি। তার আগেই রাজভবন বনাম নবান্নের এই দ্বৈরথ যে বাংলার ভোট-বৈতরণীতে নতুন মাত্রা যোগ করবে তাতে আর সন্দেহ অবকাশ নেই।

