ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে বিএসএফের হাতে ধাপে ধাপে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। কোন জেলায় কত জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সোমবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই তথ্য প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট এক হাজার চব্বিশ দশমিক পঁচাত্তর (১,০২৪.৭৫) একর জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই জমির উপর একশো বাহাত্তর দশমিক ছয় (১৭২.৬) কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া এবং প্রয়োজনীয় সীমান্ত পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ হবে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর হয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে পঁয়তাল্লিশ দশমিক চার (৪৫.৪) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য তিনশো সাঁইত্রিশ (৩৩৭) একর জমি দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিয়াল্লিশ দশমিক শূন্য সাত (৪২.০৭) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য দুইশো একচল্লিশ দশমিক শূন্য তিন (২৪১.০৩) একর, কোচবিহারে ঊনচল্লিশ দশমিক ঊনচল্লিশ (৩৯.৩৯) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য একশো পঁয়ত্রিশ দশমিক তেত্রিশ (১৩৫.৩৩) একর, মালদায় কুড়ি দশমিক পনেরো (২০.১৫) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য একশো ছিয়াত্তর দশমিক আটাত্তর (১৭৬.৭৮) একর, নদিয়ায় চৌদ্দ দশমিক ঊনআশি (১৪.৭৯) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য পঁচানব্বই দশমিক এগারো (৯৫.১১) একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে সাত দশমিক পঁচাত্তর (৭.৭৫) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ছাব্বিশ দশমিক একচল্লিশ (২৬.৪১) একর, দার্জিলিংয়ে এক দশমিক পঁয়তাল্লিশ (১.৪৫) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য চার দশমিক একত্রিশ (৪.৩১) একর, উত্তর দিনাজপুরে এক দশমিক আঠাশ (১.২৮) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ছয় দশমিক একষট্টি (৬.৬১) একর এবং জলপাইগুড়িতে শূন্য দশমিক একত্রিশ (০.৩১) কিলোমিটার সীমান্তের জন্য দুই দশমিক সতেরো (২.১৭) একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় দুই হাজার দুইশো সতেরো (২,২১৭) কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা ভারতের দীর্ঘতম স্থলসীমান্তগুলির অন্যতম। সীমান্তের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু ও মাদক পাচার, জাল নোটের কারবার-সহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রুখতে বহু বছর ধরেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সীমান্ত নজরদারি জোরদার এবং বিএসএফের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক কারণে বেশ কিছু এলাকায় সেই কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। সরকারের দাবি, নতুন করে জমি হস্তান্তরের ফলে সেই বাধা অনেকটাই কাটবে এবং সীমান্ত সুরক্ষার কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
