১২ বছরের নাবালিকার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রবিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। গত শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার হয় এবং পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং রবিবার এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়, যেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা খুনের সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিলে পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অশান্তি রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই তিনটি থানা এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, পাশাপাশি লাঠি বা ধারালো অস্ত্র বহন ও লাউড স্পিকার ব্যবহারের ওপরেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনি শাস্তি ও জেল জরিমানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও যৌথবাহিনীর টহলদারি চলছে এবং ঘটনার তদন্তে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার ও আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পাশাপাশি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এবং ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে । রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ।

