বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর কিংবা বড় কোনও ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় একসঙ্গে বহু মানুষকে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এবার আর আলাদা আলাদা টিকিট কাটার ঝামেলা নেই। ভারতীয় রেলের বিশেষ ফুল ট্যারিফ রেট (Full Tariff Rate বা FTR) পরিষেবার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকও চাইলে সম্পূর্ণ একটি ট্রেন বা ট্রেনের নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচ নিজের নামে সংরক্ষণ করতে পারেন। অনেকের কাছেই বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি ভারতীয় রেলের দীর্ঘদিনের একটি সরকারি পরিষেবা, যা মূলত বড় দলগত যাত্রার সুবিধার জন্য চালু রয়েছে।
এই পরিষেবা পেতে হলে আপনাকে আবেদন করতে হবে। যা আইআরসিটিসির নির্দিষ্ট FTR পোর্টালের মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট বড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে। তবে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৩০ দিন আগে আবেদন করতে হবে এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। আবেদন জমা পড়ার পর রেলের অনুমোদন ও ট্রেনের প্রাপ্যতা যাচাই করে বুকিং চূড়ান্ত করা হয়।
যদি কেউ সম্পূর্ণ একটি বিশেষ ট্রেন বুক করতে চান, তাহলে সাধারণভাবে ন্যূনতম ১৮টি এবং সর্বোচ্চ ২৪টি কোচ সংরক্ষণ করা যায়। এই সংখ্যার মধ্যে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় এসএলআর বা জেনারেটর কারও অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ট্রেনের প্রয়োজন না হলে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোচও সংযুক্ত করা যায়। সাধারণভাবে একটি দলের জন্য সর্বোচ্চ ১০টি অতিরিক্ত কোচ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রেলের অনুমোদনের উপর তা নির্ভর করে।
এই বিশেষ পরিষেবার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সম্পূর্ণ ট্রেন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮টি কোচের জন্য মোট ৯ লক্ষ টাকা সিকুউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হয়। কেউ ১৮টির কম কোচ নিলেও এই ন্যূনতম ৯ লক্ষ টাকার ডিপোজিট প্রযোজ্য থাকে। অতিরিক্ত কোচ নিলে প্রতি কোচের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা করে জমা দিতে হয়। আবার বুকিংয়ের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হলে প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য কোচপিছু ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত সিকুউরিটি ডিপোজিট দিতে হয়। অন্যদিকে, শুধুমাত্র একটি বা কয়েকটি কোচ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতি কোচের জন্য ৫০ হাজার টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট দিতে হয়। যাত্রা শেষে কোচ বা ট্রেনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এই সিকিউরিটি ডিপোজিটের টাকা আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।
বুকিংয়ের সময় আবেদনকারীকে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, যাত্রার রুট, যাত্রীসংখ্যা, যাত্রার সম্ভাব্য তারিখসহ একাধিক তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর একটি রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে বুকিংয়ের অগ্রগতি অনলাইনে দেখা যায় এবং প্রয়োজনে রেলের সঙ্গে যোগাযোগও করা সম্ভব।
তবে এই পরিষেবা ব্যবহার করলেও ইচ্ছামতো যেকোনও স্টেশনে ট্রেন থামানো যায় না। রেলের নির্ধারিত অপারেশনাল নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র যেসব স্টেশনে ট্রেনের নির্ধারিতভাবে অন্তত ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানেই অতিরিক্ত কোচ সংযুক্ত বা বিচ্ছিন্ন করা যায়।

