ভারতের পরবর্তী আদমশুমারি বা জনগণনা হতে চলেছে সম্পূর্ণ হাই-টেক। আজ নতুন দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৭ সালের আদমশুমারির জন্য ৪টি বিশেষ ডিজিটাল টুল এবং দুই আকর্ষণীয় ম্যাসকট ‘প্রগতি’ ও ‘বিকাশ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। সি-ড্যাক (C-DAC)-এর তৈরি এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এবার ভারতের বিশাল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও দ্রুত। যা ব্যবহার করে ঘরে বসেই তথ্য দিতে পারবে দেশের মানুষ।
সরকারি সূত্রমতে, ২০২৭ সালের জনগণনা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে এবং এবারই প্রথম পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে। প্রথমবার নাগরিকদের জন্য অনলাইনে নিজে তথ্য দেওয়ার সুযোগ বা ‘সেলফ-এনুমারেশন’ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আদমশুমারিকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলতে দুটি ম্যাসকট চালু করে আজ অমিত শাহ। একটি মহিলা গণনাকারীর নাম রাখা হয়েছে ‘প্রগতি’ এবং একটি পুরুষ গণনাকারীর নাম ‘বিকাশ’।
এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই দুই ম্যাসকটের সূচনা করেন। সরকারের মতে, জনগণনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ম্যাসকট চালু করা হয়েছে।
যে ৪টি ডিজিটাল টুল চালু হয়েছে, তার মাধ্যমে যেসব কাজ হবে:
১. স্যাটেলাইট ম্যাপিং: ঘরবাড়ি তালিকাভুক্ত করতে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ছবি নেবে যার সাহায্যে বাড়ির তালিকা তৈরি করা হবে।
২. অফলাইন মোবাইল অ্যাপ: এর মাধ্যমে যদি কারো ইন্টারনেট না থাকে ১৬টি আঞ্চলিক ভাষায় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন গণনাকারীরা।
৩. রিয়েল টাইম মনিটরিং: এর মাধ্যমে আধিকারিকরা ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সরাসরি জানতে পাবেন কোন এলাকায় কতটুকু কাজ শেষ হলো।
৪. সেলফ-এনুমারেশন পোর্টাল: এবারই প্রথম নাগরিকদের জন্য থাকছে ‘স্ব-গণনা’র সুযোগ। যার মাধ্যমে পরিবারের যোগ্য সদস্যরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিয়ে একটি ইউনিক আইডি পাবেন যার মাধ্যমে নিজের তথ্য গুলো দেখতে পাবেন। এছাড়াও জানা যায়, এই ২০২৭ জনগণনা পরিচালনার জন্য সারা দেশে ৩০ লক্ষেরও বেশি গণনাকারী ও আধিকারিক কাজ করবেন।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এবারের জনগণনা হবে দুটি ধাপে। প্রথমে শুরু হবে প্রস্তুতিপর্ব, যা চলবে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ‘হাউজলিস্টিং’ বা বাড়ি ও পরিবারের তালিকা তৈরি করা। এই পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাসনের অবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা। এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে হবে সবাইকে।
প্রসঙ্গত, এইবারের জনগণনায় জাতভিত্তিক হিসাবও রাখা হবে । এতদিন পর্যন্ত ভারতে জাতভিত্তিক জনগণনা সাধারণত করা হতো না, শুধুমাত্র তফসিলি জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রেই এই হিসাব রাখা হতো। তবে এবার সমস্ত জাতের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় সরকার।

