Prasanta Barman: সোমবার রাতে মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়ে ধরা পড়েও জামিন পেলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

সোমবার রাতে নিউ টাউনে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারার অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়েও, স্রেফ আইনি ফাঁক গলে জামিন পেয়ে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত ‘দাবাং বিডিও’ প্রশান্ত বর্মন।  সোমবার রাতের ওই চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও, মঙ্গলবার বারাসত সিজেএম আদালতে তাঁর মুক্তির পথ কার্যত মসৃণ হয়ে যায়।  পূর্ব মেদিনীপুরের বিতর্কিত স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ যাঁর ঘাড়ে ঝুলছে, তাঁর জামিন রুখতে পুলিশের চরম গাফিলতি ও আদালতের টেবিলে পুরোনো মামলার নথি পৌঁছাতে না পারার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।  মাত্র ১ হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুক্তি পান তিনি।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

গত সোমবার রাতে নিউ টাউনের একটি বারে দেদার মদ্যপান সেরে চড়া গতিতে গাড়ি হাঁকিয়ে বের হন প্রশান্ত বর্মণ। সিটি সেন্টার ২ এর সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারেন তিনি।  দুর্ঘটনার পর গাড়ি নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাঁকে আটকে ফেলে।  সেই সময় উপস্থিত জনতা মোবাইল ক্যামেরা অন করতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন অপসারিত বিডিও।  সাধারণ মানুষের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। মদ্যপ অবস্থায় তাঁর এই ‘দাদাগিরি’র ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।  ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পথচারীরা দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারিয়ে ক্যামেরার সামনেই সাধারণ মানুষকে সরাসরি থাপ্পড় মারার হুমকি দিচ্ছেন প্রশান্ত বর্মন!

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং ক্ষিপ্ত জনতা তাঁকে ধরে ইকো পার্ক থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।  রাতভর লকআপে রাখার পর মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় বারাসত আদালতে যখন মুখ ঢাকা অবস্থায় তাঁকে হাজির করানো হয়, তখন সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানা জানান যে, প্রশান্তর বিরুদ্ধে পুলিশ শুধুমাত্র ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট’ এর জামিনযোগ্য ধারায় মামলা সাজিয়েছে এবং এর সাথে পুরোনো খুনের মামলার কোনো যোগ নেই।  কেন খুনের মামলা এর সাথে ‘ট্যাগ’ করা হলো না, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

গত জানুয়ারি মাসে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও গত পাঁচ মাস ধরে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।  মঙ্গলবার বিকেলে বিচারক স্বয়ং মামলার মূল নথিপত্র দেখতে চাইলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনো ডকেট বা নথি পেশ করা হয়নি।  এর ফলে সাড়ে সাতটা নাগাদ প্রশান্তর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।  এরপর রাত ঠিক ৮টা নাগাদ আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে যায়।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।