রোববার সকালে এক ভিন্ন রূপ দেখল রাজ্যের রাজধানী কলকাতা। দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড পরিণত হয়েছিল এক বিশাল মিলনমেলায়। ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। আর এই বিশেষ আয়োজনে কোনো বাড়তি আড়ম্বর ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক সারিতে বসে যোগাভ্যাসে শামিল হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ সকালে রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে অংশ নেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাসনে যোগ দেন রাজ্যপাল আর এন রবি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভোর থেকেই রেড রোডে ছিল সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাভ্যাস করার জন্য ভোর থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী যখন সাধারণ মানুষের সারিতে মাদুর পেতে যোগাভ্যাসে অংশ নেন, তখন এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী রইল শহর। কেবল নিজে যোগাসন করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, অনুষ্ঠানের শেষে মঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে চলে যান প্রধানমন্ত্রী। কোথাও কারো ভঙ্গি ভুল হলে তা পরম যত্নে শুধরে দিতেও দেখা যায় তাঁকে।

এবারের যোগ দিবসের মূল সুর ছিল ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ অর্থাৎ সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলেন, “যোগ কেবল শরীরচর্চার বিষয় নয়, এটি জীবনের একটি অঙ্গ। নিয়মিত অভ্যাস করলে ৪০ বছরেও আপনি ২০ বছরের মতো সতেজতা ধরে রাখতে পারেন।”
বিশ্বজুড়ে যোগের বিস্তারের পেছনে স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঋষি অরবিন্দদের অবদানের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের সাথে মানুষের অটুট সম্পর্কের কথা বলতেন। যোগ ঠিক সেই কাজটাই করে এটি মানুষকে ভেদাভেদ ভুলিয়ে একসূত্রে বাঁধে।”

শুধু কলকাতার রেড রোড নয়, এদিন রাজ্যজুড়ে পালিত হয়েছে যোগ দিবস। পাশাপশি কলকাতার বিভিন্ন মোড়ে লাগানো বড় স্ক্রিনে রেড রোডের অনুষ্ঠান দেখে অনেকেই নিজের বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় যোগাভ্যাসে মেতে ওঠেন।
শনিবার দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসা প্রধানমন্ত্রী রবিবার তারকেশ্বরের কর্মসূচি শেষ করে রেড রোডে আসেন। এই ব্যস্ত সূচির মাঝেও যোগ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “বার্ধক্যকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, নিয়মিত যোগাভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘ সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।”

রেড রোডের অনুষ্ঠান শেষে লোকভবনে ফিরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে গার্ডেনরিচে তিনটি নতুন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করে আজ বেলা ১১টা নাগাদই তাঁর দিল্লি ফেরার কথা।
