★ Md 360 PVC Print Service ★

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন

🪪 রেশন • আয়ুষ্মান • আভা • ভোটার

ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি

💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন

যে স্কুলের দশম শ্রেণির অনুমোদন ১৯৭৩ সালে, সেই স্কুলেই ১৯৬৫-তে দশম শ্রেণিতে পড়েন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি! নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা ঘিরে বিতর্ক

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
5 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগেই বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।  নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর নির্বাচনী হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) সামনে আসতেই বয়স এবং পড়াশোনার বছর নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

কী আছে হলফনামায়?
কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার শুরুতেই প্রার্থীর বয়সের জায়গায় লেখা রয়েছে ‘৬০ প্লাস’। কিন্তু গোলমাল পেকেছে শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরটি নিয়ে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— তিনি ১৯৬৫ সালে ‘চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা হাইস্কুলে’ দশম শ্রেণিতে পড়েছেন!এই দুই তথ্য মিলিয়ে দেখতেই সামনে এসেছে বড়সড় অসঙ্গতি হিসাব বলছে, যদি ১৯৬৫ সালে তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী হন, তবে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে তাঁর বয়স ৬০ প্লাস নয়, বরং ৮০ ছুঁইছুঁই হওয়ার কথা! আর যদি তাঁর বয়স ৬০-এর কোঠায় হয়, তবে ১৯৬৫ সালে তিনি হয় ৮ বছরের শিশু, না হয় সদ্যোজাত! অথচ হলফনামার কোথাও প্রার্থীর নির্দিষ্ট জন্মতারিখ, মাস বা বছরের কোনো উল্লেখই নেই!

অসঙ্গতির রহস্য এখানেই শেষ হচ্ছে না। হলফনামায় যে স্কুলের নাম রয়েছে, সেই চৌখালি গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠের সরকারি রেকর্ড বলছে অন্য কথা। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং শুরুতে এটি ছিল একটি জুনিয়র স্কুল। পরে ১৯৭৩ সালে স্কুলটি দশম শ্রেণির অনুমোদন পায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে স্কুল ১৯৭৩ সালের আগে দশম শ্রেণির স্বীকৃতিই পায়নি, সেখানে তার ৮ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে (প্রতিষ্ঠার মাত্র ২ বছরের মাথায়) হাসিরানি দেবী দশম শ্রেণিতে পড়লেন কীভাবে?

পুরো বিতর্কের মাঝে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠছে মনোনয়ন যাচাই বা স্ক্রুটিনির প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামার একদম শেষ পাতায় (পৃষ্ঠা ১২) স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হলদিয়ায় (Haldia) বসে হাসিরানি রথ নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। শুধু তাই নয়, সেখানে নোটারি পাবলিকের সরকারি সিলমোহর এবং আইনজীবীর স্বাক্ষরও রয়েছে। আইন অনুযায়ী, হলফনামার এই শেষ অংশে প্রার্থী নিজে ঘোষণা করেন যে—নথিতে দেওয়া সমস্ত তথ্য তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী সম্পূর্ণ সত্য, সঠিক এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়নি।তাহলে প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী নিজে সই করার আগে এবং নোটারি পাবলিক ও আইনজীবীর মাধ্যমে তা ভেরিফিকেশন বা যাচাই করার সময় এত বড় একটি ভুল কারও চোখে পড়ল না কীভাবে? যদি এটি সত্যিই স্রেফ টাইপিং বা মুদ্রণগত ভুল হয়ে থাকে, তবে নথিতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার আগে তা কেন সংশোধন করা হলো না, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন থেকে যায়?

এই অভিযোগ সামনে আসার পর কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, হলফনামায় বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের নথির সঙ্গে তা মেলে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগটি খারিজ করেছে।  দলের বক্তব্য, হাসিরানি রথ ১৯৮০ সালে দশম শ্রেণিতে পড়তেন। হলফনামায় ১৯৬৫ সাল লেখা হয়েছে টাইপিং এর ভুলের কারণে।

সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর এই হলফনামা ঘিরে এখন মূলত তিনটি বড় প্রশ্ন পুরো রাজ্য রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথম প্রশ্নটি উঠছে প্রার্থীর বয়স এবং আইনজীবীদের ভেরিফিকেশন নিয়ে। বয়সের ঘরে ‘৬০ প্লাস’ লেখা থাকার পরও, প্রার্থী নিজে সই করার সময় এবং নোটারি পাবলিক ও আইনজীবীদের দিয়ে যাচাই করানোর সময় এই ১৯৬৫ সালের ওই ভুলে ভরা তথ্যটি কারও চোখে পড়ল না কীভাবে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে। সবথেকে বড় কথা, স্ক্রুটিনির সময় সরকারি অফিসারদের চোখেও এই অসঙ্গতি ধরা পড়েনি, যার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিলও হয়নি। উল্টে, ওই ভুলে ভরা হলফনামাটিই হুবহু নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় গণ্ডগোল থাকার পরও কোন নথির ওপর ভিত্তি করে এই হলফনামাটি পাশ করে দেওয়া হলো।

দ্বিতীয় বড় ধন্দটি তৈরি হয়েছে স্কুলের অনুমোদন নিয়ে। নথিতে যে চৌখালী স্কুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী সেখানে দশম শ্রেণীর অনুমোদনই এসেছিল ১৯৭৩ সালে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে স্কুলে ১৯৭৩ সালের আগে দশম শ্রেণীর কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে তার আট বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে দশম শ্রেণী চলার তথ্যের আসল ভিত্তিটা কী। এর পাশাপাশি তৃতীয় প্রশ্নটি উঠছে বিজেপির পাল্টা দাবি ঘিরে। দলগতভাবে বিজেপি দাবি করছে যে প্রার্থীর পড়াশোনার আসল বছর নাকি ১৯৮০। রাজনৈতিক মহল এখন জানতে চাইছে, যদি এটি সত্যিই টাইপিংয়ের ভুল হয়ে থাকে, তবে হলফনামায় সই করার আগে বা পরে এই ভুল সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো সঠিক কাগজ বা প্রমাণ আদৌ জমা দেওয়া হয়েছে কি না।এই সব জোরদার বিতর্কের মধ্যেই আগামী ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর ভোট শেষে আগামী ৯ অক্টোবর, শুক্রবার ঘোষণা করা হবে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল।

বিস্তারিত দেখুনঃ ক্লিক করুন 

★ Md 360 PVC Print Service ★

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন

🪪 রেশন • আয়ুষ্মান • আভা • ভোটার

ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি

💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।