উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পাশে বাম দলগুলির বইয়ের স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন তরজা। বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামেদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মণ্ডপের পাশে মার্কসীয় সাহিত্যের স্টল বসাতে গেলে ব্যানারে ‘শারদোৎসব’ লেখার পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ‘দুর্গাপুজো’ বা ‘দুর্গাপূজা’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। তিনি পুজো কমিটিগুলোর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথাকথিত কমিউনিস্টরা যদি ব্যানারে দুর্গাপুজো শব্দের উল্লেখ না করে, তবে তাদের যেন একটিও স্টল করতে দেওয়া না হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সমর্থনে বিজেপির শমিক ভট্টাচার্য জানান যে দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ বানিয়ে দেওয়ার পেছনে একটি প্রগতিশীল চক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, যা নতুন সরকার আসার পর এবার বদলে যাবে। সরকার পক্ষের দাবি, সনাতন ধর্মের ভাবাবেগকে আড়াল করতেই বামপন্থীরা সচেতনভাবে এই উৎসবের ধর্মীয় পরিচয় মুছে একে ধর্মনিরপেক্ষ ‘শারদোৎসব’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ফতোয়ার পর চুপ করে বসে থাকেনি বিরোধী বাম শিবির। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ফতোয়া’র পরই সামাজিক মাধ্যমে আসরে নামে বাম সমর্থকেরা। সিপিএমের অফিসিয়াল পেজ থেকে শেয়ার করা স্ক্রিনশটটিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে যখন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিন তিনি নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে সকলকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে লিখেছিলেন— ‘সকলকে শারদ উৎসব ও মহাষষ্ঠী’র আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।’

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। মহম্মদ সেলিম মনে করিয়ে দেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর সৃষ্টিতে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শারদোৎসব’ বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি ক্যাপশন দিয়েছেন: ‘শারদোৎসব’ লেখা যাবে না!

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন