ভোটার তালিকায় ভোটারের ছবির জায়গায় খোদ হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের ভগবান হনুমানের ছবি! রাজস্থানের কোটা পুরনিগম নির্বাচনের আগে এমনই একটি ছবি সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছবি-সহ ভোটার তালিকায় কী ভাবে একজন ভোটারের ছবির জায়গায় হনুমানের ছবি এল, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে কোটা পুরনিগম এলাকার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর পার্টে। সেখানকার ভোটার তালিকার ১২৯৪ নম্বর সিরিয়ালে নাম রয়েছে ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির, যাঁর নাম জগদীশ। নথিতে তাঁর ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় কানসুয়া এলাকার প্রেম নগর ২-এর ৬ নম্বর বাড়ি। তালিকায় তাঁর বাবার নাম লেখা রয়েছে রামচন্দ্র। তবে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও বিপত্তি ঘটেছে ভোটারের ছবির জায়গায়। সেখানে জগদীশ নামের ওই ব্যক্তির ছবির পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে হনুমানের ছবি। একাংশের ধারণা, আবেদনকারীর বাবার নাম ‘রামচন্দ্র’ হওয়ার কারণেই হয়তো ডেটা এন্ট্রির সময় প্রযুক্তির বিভ্রাটে বা চরম অসাবধানতায় এই অদ্ভুত অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
ভোটার তালিকায় এই ধরনের বিভ্রান্তি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারণ, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত থেকে যাচাইকরণ বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করাতে হয়। বুথ স্তরের আধিকারিক (BLO)-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নাম তালিকায় যুক্ত হওয়ার কথা। তবে এই গাফিলতির দায় অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও রাজেশ গুপ্তা। তাঁর দাবি, এই নির্দিষ্ট আবেদনপত্রটি তিনি নিজে যাচাই করেননি। কিছু ফর্ম সরাসরি নির্বাচন দফতরে অফলাইনে জমা পড়েছিল এবং সেখান থেকেই এই ত্রুটি ঘটেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাঁর নাম ঘিরে এত বড় বিতর্ক, সেই জগদীশ নামের ভোটারের বাস্তবে কোনো হদিস মিলছে না। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সময় বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। জগদীশ নামের সেই ভোটারকে দশদিন ধরে খুঁজলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এমনকি আবেদনপত্রে কোনো মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত না থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
