রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের পূর্বতন সরকারের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে আর্থিক সমস্যার মধ্যেও সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি করলেন তিনি। সোমবার নবান্ন সভাঘরে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার বর্ধিত হারে টাকা দেওয়ার কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বের সরকারের কারণে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তবু প্রতিশ্রুতি পূরণ করল সরকার।”
এদিন থেকেই রাজ্যের যোগ্য প্রবীণ ও বিধবা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বর্ধিত হারে ভাতার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতদিন মাসে ১,০০০ টাকা করে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা দেওয়া হত। এবার সেই পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
নবান্নের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সংকল্প পূরণের একটা ধাপ এগোলাম।” তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারগুলির বেনিয়মের কারণে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে এখনও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। রাজস্ব চুরির কারণেই রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, সরকার ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভুয়ো উপভোক্তাদের আর ভাতা দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র যোগ্য উপভোক্তারাই এই সুবিধা পাবেন।
রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা উপভোক্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ উপভোক্তা কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এই প্রকল্পে ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি উপভোক্তাদের জন্য কেন্দ্র মাসে ২০০ টাকা এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা বরাদ্দ করে।
এতদিন কেন্দ্রের বরাদ্দের সঙ্গে রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ যোগ করে মোট ১,০০০ টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হত। এবার সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় ৪০ লক্ষ উপভোক্তা রাজ্য সরকারের নিজস্ব বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। সমাজকল্যাণ দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকারই বহন করে।

