এবার থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনবে রাজ্য সরকার। দালাল, ফড়ে বা চালকলের মাফিয়াদের মাধ্যমে কৃষকদের যাতে বঞ্চিত হতে না হয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষকদের জন্য একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধান কেনার বিষয়টি নিয়ে এ দিন বিশেষ ভাবে জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকেরা সহায়ক মূল্যে যত ধান বিক্রি করতে চাইবেন, সরকার তা কিনে নেবে। ধান কেনার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না।
শুভেন্দু বলেন, এ বার ভালো পরিমাণে ধান উৎপাদনের আশা রয়েছে। সহায়ক মূল্যের সঙ্গে আরও ২০০ টাকা করে দিয়ে ধান কেনা হবে। কৃষকদের বঞ্চিত করার জন্য কোনও দালাল, ফড়ে বা চালকলের ‘মাফিয়া’কে মাঝখানে রাখা হবে না। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনার ব্যবস্থা করবে সরকার।
ধান বিক্রিতে কৃষকদের উৎসাহ দিতে অতিরিক্ত টাকার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ১০০ কুইন্টাল ধান দিলে ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকাও পাবেন কৃষক।
এ দিন ধান কেনার ক্ষেত্রে কোনও ঊর্ধ্বসীমা না থাকার কথাও স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, কোনও কৃষক যত ধান দিতে চান, সহায়ক মূল্যে সরকার তা কিনে নেবে। কৃষকদের ধান বিক্রির ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য বিধায়কদের নজরদারির দায়িত্বও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কৃষকদের বিদ্যুৎ খরচ নিয়েও এ দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পূর্ব বর্ধমানের ৪ লক্ষের বেশি কৃষক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি পাবেন। এর ফলে বছরে কৃষকদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয় হতে পারে বলে জানান তিনি। কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের যাচাই প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা জানান শুভেন্দু। জমি থাকা কৃষকদের বছরে ৪ হাজার টাকা এবং বেশি জমির ক্ষেত্রে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পূর্ব বর্ধমানকে ‘শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
