দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিলমোহর পড়ল শুভেন্দু অধিকারীর নামে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে বিপুল জয়ের পর শুক্রবার কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন, যা দলের নবনির্বাচিত বিধায়করা একবাক্যে সমর্থন জানান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের দুর্গ ভাঙার কারিগর হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ওপরই ভরসা রাখল দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন চমক এসেছে। শাসনের কাজে ভারসাম্য আনতে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ ঘোষ এবং আসানসোল থেকে অগ্নিমিত্রা পালকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পুলিশ-প্রশাসন (স্বরাষ্ট্র), সরকারি কর্মীদের নিয়োগ ও দাপ্তরিক নিয়ম (কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার) এবং জমিজমা সংক্রান্ত (ভূমি সংস্কার) গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্ব সামলাবেন। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি দেখভালের জন্য অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে নিশীথ প্রামাণিককে করেছে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দায়িত্ব । শিক্ষা দপ্তরের ভার পেয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। এছাড়া চন্দনা বাউরি ও রেখা পাত্রের মতো সাধারণ ঘরের প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় রেখে বিজেপি সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
এছাড়াও রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা (Minority Affairs and Madrasah Education) দপ্তরের পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন ভারত কুমার ঝাওয়ার।
আগামীকাল, ৯ মে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব পদ্ম শিবিরে। তিন দশকের বাম জমানা এবং দীর্ঘ তৃণমূল শাসনের পর বাংলায় গেরুয়া শিবিরের এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক রূপান্তর’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
