সোমবার সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ভোট গণনা। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম ও নোয়াপাড়া এলাকায় ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড বেঁধে যায়। রাস্তার ধারের জঞ্জালে স্লিপ গড়াগড়ি খেতে দেখে যখন ‘ভোট লুট’ এর অভিযোগে সরব বিরোধীরা, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় বয়ান দিল নির্বাচন কমিশন।
ঘটনাটি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ানোর পর উত্তর ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) টুইট করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার হওয়া ভিভিপ্যাট স্লিপগুলি আসল নির্বাচনের বা পোল ডের (Poll Day) নয়। ভোট শুরুর আগে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে যে ‘মক পোল’ বা মহড়া হয়, এগুলি সেই সময়ের স্লিপ। কমিশনের মতে, আসল ভোট ইভিএম ও স্ট্রং রুমে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে, তাই জনমানসে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার রাতে মধ্যমগ্রামের সুভাষ নগর এলাকায় রাস্তার ধারের আবর্জনার মধ্যে বেশ কিছু ভিভিপ্যাট স্লিপ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই স্লিপগুলিতে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম ছিল। খবর চাউর হতেই দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া স্লিপগুলির মধ্যে বাম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের ‘কাস্তে-হাতুড়ি’ চিহ্নে পড়া স্লিপের সংখ্যাই বেশি। এর পরেই কারচুপির অভিযোগে সরব হন সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল প্রার্থীও।
মক পোলের স্লিপ হলেও, এত গুরুত্বপূর্ণ নথি কেন এবং কীভাবে রাস্তার আবর্জনায় এল, সেই দায় এড়াতে পারছে না প্রশাসন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, এই গাফিলতির নেপথ্যে কারা রয়েছে তা জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। গোটা এলাকা বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।

