আপনি কি প্রতিদিনের বরাদ্দ ইন্টারনেট ডেটা ১.৫ জিবি বা ২ জিবি ডেটা পুরোটা খরচ করতে পারেন? যদি না পারেন, তবে আপনার পকেটের টাকা কিন্তু জলেই যাচ্ছে। রাত ১২টা বাজলেই আপনার কেনা ১.৫ জিবি বা ২ জিবি ডেটা নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। অথচ এই পুরো ডেটার জন্যই আপনাকে টাকা দিতে হয়েছে। এবার এ বিষয়টি নিয়ে টেলিকম কোম্পানিদের পরিকল্পিত লুট বলে তোপ দাগলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা।
সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন
যে জিনিসের জন্য আমি আগেই টাকা দিয়ে দিয়েছি, তা যদি আমি ব্যবহার না করি তা কেন বাজেয়াপ্ত করা হবে?
এদিন সাধারণ মানুষের হয়ে রাঘব চাড্ডা দাবি তোলেন
১. বেঁচে যাওয়া ডেটা কালকের জন্য জমা রাখা: ধরুন, আপনি রিচার্জ করেছেন সেখান থেকে প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা পান, কিন্তু আজ ১ জিবি ব্যবহার করেছেন। বাকি ১ জিবি যেন রাত ১২টার পর মুছে না যায়। সেই বেঁচে যাওয়া ডেটা যেন পরের দিনের ডেটার সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, আপনার কেনা জিনিস আপনি শেষ না করা পর্যন্ত আপনার ফোনেই থাকবে।
২. ডেটা অন্যকে পাঠানোর সুযোগ: আপনার ফোনে প্রচুর ডেটা আছে কিন্তু ব্যবহার করছেন না, অন্যদিকে আপনার বন্ধু বা পরিবারের কারোর ডেটা শেষ হয়ে গেছে, এমন সময় যেন আপনি আপনার বাড়তি ডেটা তাঁদেরকে পাঠাতে পারেন। যেমনভাবে আমরা একে অপরকে টাকা পাঠাই, ঠিক তেমনই ডেটা ট্রান্সফারের সুবিধাও দিতে হবে।
৩. ২৮ দিনের বদলে পুরো মাসের রিচার্জ: টেলিকম কোম্পানিগুলো সাধারণত ২৮ দিনের রিচার্জ দেয়। এর ফলে আমাদের বছরে ১২ মাসের জায়গায় ১৩ বার রিচার্জ করতে হয়। এই ‘চালাকি’ বন্ধ করে রিচার্জের মেয়াদ পুরো ১ মাস (৩০ বা ৩১ দিন) করার দাবি জানান এদিন সাংসদ রাঘব চাড্ডা, যাতে সাধারণ মানুষকে বাড়তি ১ মাসের রিচার্জ করতে না হয়।
৪. সিম রিচার্জ না থাকলেও কল আসা চালু রাখা: অনেক সময় রিচার্জ শেষ হয়ে গেলেই ইনকামিং কল বা ব্যাংকের ওটিপি (OTP) আসা বন্ধ হয়ে যায়। এদিন তিনি দাবি করেন, রিচার্জ শেষ হলেও অন্তত এক বছর যেন ফোন আসা এবং মেসেজ আসে। এতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বেন না এবং জরুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না।
এখন দেখার বিষয়, টেলিকম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (TRAI) বা সরকার সাধারণ মানুষের জন্য হলেও এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।

