আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে ২০২৭ সালের জনশুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ। কিন্তু তার আগেই সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে হরেক প্রশ্ন। আধুনিক জীবনের বদলে যাওয়া চালচিত্রের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এ বার শুমারির ধাঁচও কিছুটা বদলেছে। মূলত ঘরবাড়ি তালিকাভুক্তকরণ এবং খানাপুরি বা হাউসলিস্টিং এর কাজ চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই আবহে আমজনতার বিভ্রান্তি দূর করতে গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ৩৩ দফা প্রশ্নের রেশ ধরে এবার একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করে।
এবারের জনশুমারিতে লিভ-ইন সম্পর্কের জট অনেকটাই আলগা করে দিয়েছে। জনগণনায় লিভ ইনে থাকা যুগলরাও বিবাহিত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথাগত স্বীকৃতির চেয়েও জুটির পারস্পরিক ঘোষণাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এবারের জনশুমারিতে পরিবারের ‘প্রধান’ বা ‘কর্তা’ নির্বাচনের সংজ্ঞায় বড় বদল হয়েছে। এখন থেকে কেবল বয়সে বড় পুরুষ সদস্যই নয়, বরং পরিবারের অন্দরমহলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যিনি নেন এবং যাঁর কর্তৃত্ব বাকিরা মেনে নেন, লিঙ্গ বা বয়স নির্বিশেষে তিনিই ‘পরিবার প্রধান’ হিসেবে গণ্য হবেন। এমনকি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ কাজের প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বাড়ির বাইরে থাকলেও তাঁদের ওই পরিবারের সদস্য ও দম্পতি হিসেবেই নথিভুক্ত করা হবে। এছাড়াও প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম বেশ কড়া; স্মার্টফোনে সিনেমা বা খবর দেখলেও সেটিকে ‘টেলিভিশন’ বা ‘কম্পিউটার’ হিসেবে দাবি করা যাবে না। তবে ফোনে এফএম রেডিও থাকলে তা ‘রেডিও’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্মার্ট টিভিতে ফায়ার স্টিক বা স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করলে সেটিকে ‘অন্যান্য যন্ত্র’ হিসেবে আলাদা কলামে দেখাতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো পোর্টালে গিয়ে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
প্রসঙ্গত, এইবারের জনগণনায় জাতভিত্তিক হিসাবও রাখা হবে। এতদিন পর্যন্ত ভারতে জাতভিত্তিক জনগণনা সাধারণত করা হতো না, শুধুমাত্র তফসিলি জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রেই এই হিসাব রাখা হতো। তবে এবার সমস্ত জাতের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় সরকার।
১৮৮১ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি দশকের জনগণনাতেই জাতভিত্তিক তথ্য নেওয়া হতো। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সাল থেকে কেবল তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র তথ্য রাখা হতো। বাকি জাতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আর সংগ্রহ করা হয়নি। তবে এবার ২০২৭-এর জনগণনার সেই বন্ধ অধ্যায় আবার খুলতে চলেছ।
জাতিভিত্তিক জনগণনা মানে হলো সেন্সাস স্টাফরা প্রতিটি নাগরিকের জাত (caste) সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবে।
এই তথ্যের মাধ্যমে বোঝা যাবে, কোন জাতির কতজন মানুষ রয়েছে, তারা কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে, কী রকম পেশায় যুক্ত, স্বাস্থ্য ও আয়ের অবস্থা কেমন, আর সামাজিকভাবে তারা কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে।
স্বাধীনতার পর ভারত সরকার চারটি শ্রেণিতে মানুষকে ভাগ করে: SC, ST, OBC এবং General ক্যাটাগরিতে। SC ও ST এর তথ্য প্রতি গণনায় নেওয়া হলেও, OBC ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট সংখ্যা আজও সরকারি ভাবে নেই।
২০১১ সাল থেকে বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা কত সে সম্পর্কিত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। একগুচ্ছ প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও আণুষাঙ্গিক অন্যান্য সমস্যা এজন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে, কিন্তু ২০১১ সালের জনগণনার পর জানা গিয়েছিল, ওই সময় জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটির কিছু বেশি। বর্তমানে জনসংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত নেই। ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি , কেন্দ্রের সরকার জানায় ২০২১ সালে জনগণণা নেওয়া সম্ভব হয়নি করোনা মহামারীর জন্য।

