বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এর আওতায় আবেদন করা যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি।
অমিত শাহ জানান, সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর দাবি, আইনের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
সিএএ অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই তালিকায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন।
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী দিনে আরও গতি পেতে পারে।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
অর্থাৎ একই বক্তব্যে দুটি পৃথক অবস্থান তুলে ধরেছেন অমিত শাহ একদিকে সিএএ-র আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বক্তব্যে সিএএ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার প্রসঙ্গও তোলেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ কার্যকর করার বিরোধিতা করেছিলেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার থাকায় আইনটি বাস্তবায়নে আর সেই বাধা নেই বলেও বার্তা দেন তিনি।

