প্রবীণদের জন্য এমবিবিএসে ১% সংরক্ষণ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ ৭১ বছরের NEET পরীক্ষার্থী

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
চিত্রঃ সংগৃহীত
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব স্বপ্ন পূরণে বয়স কোনো বাধা নয় এই বার্তাই ফের সামনে এনেছেন উত্তরপ্রদেশের ৭১ বছরের অশোক বাহার।  তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে এক রিট আবেদন করে এমবিবিএস ভর্তিতে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানান।  আগামী ২১ জুলাই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

আবেদনে অশোক বাহারের দাবি, বর্তমানে NEET পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই।  সুপ্রিম কোর্টের আগের এক রায়ের পর সেই বাধা তুলে দেওয়া হয়েছে।  তাই যখন প্রবীণ নাগরিকদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি রয়েছে, তখন তাঁদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষ সুযোগ থাকবে না কেন? নিট পরীক্ষায় বিভিন্ন শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ ও বিশেষ সুবিধা থাকলেও প্রবীণ বয়স্কদের জন্য তেমন কোনো সুবিধা ব্যবস্থা নেই বলেই তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তাঁর আইনজীবী পঙ্কজ ধীর সিং রানা জানান, এই মামলার মূল বিষয় সমান সুযোগের অধিকার।  একজন প্রবীণ নাগরিক যদি আইনগতভাবে NEET পরীক্ষা দিতে পারে, তাহলে শুধু বয়সের কারণে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা থাকবে কেন এই প্রশ্নই আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।  সেই কারণেই প্রবীণদের জন্য এমবিবিএস ভর্তিতে ১ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অশোক বাহার।

আশোক‌ বাহার এর আগে ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।  তবে তখন সফল হতে পারেননি।  এরপর দীর্ঘ সময় কেটে যায়।  ২০২৩ সালে আবার NEET দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। তবুও তিনি থেমে থাকেননি।  চলতি বছরের মে মাসে তিনি আবার NEET UG ২০২৬ পরীক্ষায় অংশ নেন।

জানা গেছে, তাঁর এই স্বপ্নের শুরু হয়েছিল তাঁর মা সাবিত্রী দেবীর হাত ধরে।  ছেলেকে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলো তিনি।  ১৯৯০ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও সেই ইচ্ছা অশোক বাহারের মনে থেকে যায়।  পরে তাঁর স্ত্রী ডা. মঞ্জু বাহারও তাঁকে আবার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য উৎসাহ দেন।  যদিও তাঁর পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্য চিকিৎসক, যাঁদের অনেকেই বিদেশে কর্মরত।

অশোক বাহারের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনও বেশ উজ্জ্বল।  তিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ও রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।  পাশাপাশি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা, আইন বিষয়ে ডিগ্রি এবং এমবিএও করেছেন।

কর্মজীবনে তিনি ইন্ডিয়ান ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (IDPL) এ উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড অঞ্চলের মার্কেটিং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  অবসরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছেন বলে জানা যায়।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।