প্রায় ৯ বছর পর সরকারি হাসপাতাল ও স্কুলে দেওয়া খাবারের বরাদ্দে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে রোগী ও পড়ুয়াদের আরও পুষ্টিকর এবং মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগীদের দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের স্কুলপড়ুয়াদের মিড ডে মিল বা ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পে মাথাপিছু রান্নার খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এবং ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে আগের বরাদ্দে মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের মূল লক্ষ্য সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উন্নত মানের পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য এতদিন দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ছিল ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা আগের তুলনায় আরও উন্নত মানের ও সুষম খাবার পাবেন বলে সরকারের আশা। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই দিকটি বিবেচনাতেই এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
শুধু হাসপাতাল নয়, স্কুলের পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের রান্নার খরচ এতদিন মাথাপিছু ৬ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল। আগামী ১ আগস্ট থেকে তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৩ টাকা ২২ পয়সা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকার নিজের তহবিল থেকে বহন করবে। সরকারের দাবি, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের ফলে শিশুদের জন্য আরও পুষ্টিকর ও উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও স্কুলের খাবারের সরকারি বরাদ্দ শেষবার সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। এরপর প্রায় নয় বছর ধরে বাজারদর ক্রমাগত বাড়লেও বরাদ্দে আর কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্ধারিত অর্থের মধ্যে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মিড ডে মিল নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার একটি বড় অংশের স্কুলে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব নেবে ইসকন। সরকারের দাবি, উন্নত মানের খাবার সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্পে ইসকন আর্থিক ভর্তুকিও দেবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডিম রাখা হবে কি না, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কী হবে এমন একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা চলছে এবং রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

