‘এপস্টাইন ফাইল’ বিতর্ক উড়িয়ে ৯ বছর পর ফের ইসরায়েলে মোদি, ২০১৭-র সেই মুহূর্ত কি আবার?

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

মাঝখানে কেটে গেছে দীর্ঘ ৯টি বছর। ২০১৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েলের মাটিতে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।  ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেন।  এটি মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর প্রথমটি হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, যা কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর ছিল।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সফরের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ আগে আলোচিত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ‘এপস্টাইন ফাইল’ বিতর্কেও নাম জড়ান প্রধানমন্ত্রী মোদি।  ২০১৭ সালের একটি ইমেইল বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে ‘নাচ-গান’ করেছিলেন মোদি।

যদিও ভারত সরকার এই দাবিকে ‘এক অপরাধীর অশ্লীল কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতি জারি করে বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর একটি ঐতিহাসিক সত্য, কিন্তু এপস্টাইনের ইমেইলে যা দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।  এখনও পর্যন্ত কোনো আদালত বা তদন্তে এই দাবির সত্যতা মেলেনি।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুইদিনের সরকারি সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন।  মোদি কেবল সফরই করবেন না, বরং ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন।  ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, “আমার প্রিয় বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার ইসরায়েলে আসছেন।”

পরে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলেও তিনি একই বার্তা পোস্ট করে সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন।  যদিও সেই পোস্টের জবাবে মোদি লিখেন,
ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ভারত-ইসরায়েল বন্ধন গভীর ও বৈচিত্র্যময়।  আস্থা ও উদ্ভাবনের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।”

নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের জোটকে আরও শক্তিশালী করার কাজ হবে।  তিনি ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে এক নতুন ‘অক্ষ’ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়বে।

যদি বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছে মোদি ইসরায়েল সফর নিয়ে।  অথচ একসময় চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  ১৯৩৮ সালে মহাত্মা গান্ধী তাঁর ‘হরিজন’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, “প্যালেস্টাইন আরবদের জন্য ঠিক তেমনই, যেমন ইংল্যান্ড ইংরেজদের জন্য।” স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে ভারতের মুক্তি সংগ্রামের সমান্তরাল মনে করতেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সাধারণ জনগণের নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানোদের বড় অংশই নিরীহ নারী ও শিশু।  এছাড়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি।  অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী সংঘাতে ইসরায়েলি পক্ষে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬৭১ জন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, একসময় মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু-র আমলে ভারত স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনের অধিকারের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক অবস্থান নিয়েছিল।
এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে।  গাজায় ইসরায়েলি হামলায় তৈরি হয়েছে গভীর মানবিক সংকট, বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এই কঠিন সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন।  একদিকে অতীতের কূটনৈতিক আদর্শ, অন্যদিকে বর্তমানের কৌশলগত সম্পর্ক এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোতে চাইছে কি তবে ভারত।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।