H-1B Visa: ফের আইনি ধাক্কা ট্রাম্পের! বাতিল হলো এইচ-১বি ভিসার আকাশছোঁয়া ফি

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে এবার বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন।  দক্ষ বিদেশি কর্মীদের রুখতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদনের ওপর যে ১ লক্ষ ডলারের আকাশছোঁয়া ‘ফি’ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, তাকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে বাতিল করে দিল বস্টনের ফেডারেল আদালত।  বিচারকের এই রায়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়লেন ট্রাম্প প্রশাসন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এক ঝটকায় এইচ-১বি ভিসার খরচ কয়েক হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলারে নিয়ে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।  তাঁর দাবি ছিল, এই বিপুল অঙ্কের ফি ধার্য করলে বহুজাতিক সংস্থাগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের বদলে মার্কিন নাগরিকদের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে।  ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘জাতীয়তাবাদী’ সিদ্ধান্তে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের কর্মী ও মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এদিন বস্টনের জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন ৪২ পাতার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে একহাতে নিয়েছে। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, এই বাড়তি ফি আসলে কোনো ফি নয়, এটি একটি ‘কর’ বা ট্যাক্স।  আমেরিকার সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, মার্কিন কংগ্রেসের (আইনসভা) অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এভাবে কর আরোপ করতে পারেন না।  প্রশাসনিক কার্যপ্রণালী আইন (Administrative Procedure Act) লঙ্ঘন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে ঘিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে মার্কিন স্বাস্থ্যক্ষেত্র।  ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্য মামলা করেছিল।  তাদের অভিযোগ ছিল, এই ফি কেবল কর্মীদের নয়, বরং আমেরিকার শিক্ষক, চিকিৎসক এবং গবেষকদেরও কোণঠাসা করে ফেলছিল।  আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল।  সকলেই এই রায়কে ‘মেধার জয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

আপাতত হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবে। মুখপাত্র টেলর রজার্স সাফ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের অভিবাসন সংস্কারের এজেন্ডা থেকে তারা সরছেন না।  তবে আইনজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের আগের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের নিরিখে ট্রাম্পের এই আপিল খুব একটা কাজ দেবে না।

উল্লেখ্য যে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের কপালে এতদিন যে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল এই ১ লক্ষ ডলারের ‘ট্যারিফ’।  আপাতত আদালতের এই রায়ে বড়সড় স্বস্তি ফিরল মার্কিন মুলুকে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের অন্দরে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।