নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে অবশেষে নীরবতা ভাঙল ভারত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করা হল অবশেষে। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্ত্রি আজ ইরান দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন, যা সরকারের তরফে প্রথম আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ। এছাড়াও এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ আমেরিকা ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় তেহরানে নিহত হন খামেনেই। ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা হয়েছে, সেই ঘটনার পর অবশেষে পাঁচদিন হয়ে গেলে মুখ খুলল ভারত। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এত দেরিতে প্রতিক্রিয়া আসায় প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ভারত তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনালাপ হয় মোদির। শোনা যাচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারত আজ স্বাক্ষর করেন শোকবার্তায়। মূলত ভারতের তেল আমদানির বড় অংশ ইরান-নির্ভর, স্ট্রেইট অব হরমুজে যুদ্ধের ছায়া পড়লে অর্থনীতিতে ধাক্কায় পড়তে হবে।
সম্প্রতি, বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির ইরান দূতাবাসে যান পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রি। সেখানে ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতালির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। খামেনির প্রতিকৃতি ও ইরানের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করার মুহূর্তটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে।
খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরান-ইজরায়েল সংঘাত চরম সীমায় পৌঁছেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’। উল্লেখ্য, জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনমে নৌ-মহড়া শেষে ফিরছিল। এই ঘটনায় ৮৭ জন নিহতের খবর ভারতকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। একদিকে কৌশলগত অংশীদার আমেরিকা, অন্যদিকে পুরনো বন্ধু ইরান এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়েই ভারত শুরু থেকে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করছে। তবে দেরিতে হলেও পররাষ্ট্র সচিবের এই বার্তা দিল স্পষ্ট করে দিল ইরানের পাশে ভারত।

