রাজ্যকে আরও পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট এবং আধুনিক করে তুলতে এক বিরাট পদক্ষেপ করল সরকার। তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে নাগরিক পরিষেবাকে আমজনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আজ, শনিবার (৩০ মে) থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ১০টি পুর এলাকায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই ডিজিটাল পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উন্নত বাংলা গড়ার কাজে এবার প্রযুক্তিই হবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্গী। রাস্তা, নিকাশি, আবর্জনা কিংবা নাগরিক পরিষেবার সমস্যা সবকিছুই এবার আপনার হাতের মুঠোয়।” মূলত শহরবাসীকে সচেতন করা এবং পুর পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষোভ-বিক্ষোভের দ্রুত নিষ্পত্তি করাই এই অ্যাপের মূল লক্ষ্য।
সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, হুট করে কারও ওপর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া বা জরিমানা আদায় করা এই অভিযানের উদ্দেশ্য নয়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “প্রথম তিন মাস প্রত্যেককে জানা-বোঝা ও শেখার সুযোগ দেওয়া হবে। এটি নতুন কোনও নিয়ম নয়, রাজ্যকে পরিচ্ছন্ন রাখার নিয়ম আগে থেকেই ছিল। আমরা শুধু নতুন করে সচেতনতা বাড়াতে চাইছি।”
আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রথম তিন মাস রাজ্য জুড়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার জন্য উৎসাহিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শহরজুড়ে প্রতি ১০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানোর কাজও শুরু হচ্ছে দ্রুত।
তবে এই নরম মনোভাব চিরকাল থাকবে না। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছতার নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, থুতু বা পানের পিক ফেলার মতো অভ্যাস থাকলে এবার তা বদলাতেই হবে, অন্যথায় দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। যদিও জরিমানার অঙ্ক ঠিক কত হবে, তা এখনও খোলসা করেনি দফতর।
জানা গিয়েছে, এই অ্যাপের মাধ্যমে পুর এলাকার পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়ম-কানুন এক ক্লিকেই জানতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তবে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ এ রয়েছে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও।
এবার থেকে রাস্তায় বা নিজের এলাকায় কোথাও আবর্জনা জমে থাকতে দেখলে, নাগরিকরা স্রেফ সেই নোংরার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করে দিতে পারবেন। ছবি পৌঁছানো মাত্রই নড়েচড়ে বসবে প্রশাসন। শহরবাসীর সেই অভিযোগ কতটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তার ওপর সরাসরি নজর রাখবে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, নাগরিকদের প্রতিটি সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করবে রাজ্য সরকার।
নাগরিকদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর পরামর্শ, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শুরু হতে হবে নিজের বাড়ি থেকেই। প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলার ক্ষেত্রে ‘Reusable waste’ (পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য) এবং ‘Single-use waste’ (একবার ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য) আলাদা করে রাখতে হবে, যাতে পুরসভার সাফাইকর্মীদের কাজ করতে সুবিধা হয়।

