এবার উত্তরপ্রদেশে আজম খানের জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুলডোজারের নির্দেশ, ৩৮ ভবন ভাঙবে প্রশাসন

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মওলানা মহম্মদ আলি জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।  সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিকে বেআইনি বলে দাবি করেছে রামপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আরডিএ)।  অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই ভবনগুলি তৈরি করা হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে ভবনগুলি নিজে থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে ভাঙার কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

শুধু ভবন নয়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা দুটি মসজিদ নিয়েও আপত্তি তুলেছে প্রশাসন।  আরডিএ-র দাবি, এই দুই মসজিদও সরকারি অনুমতি ছাড়াই তৈরি হয়েছে।  একটি উমর মসজিদ, যা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সামনে রয়েছে। অন্যটি প্রশাসনিক ভবনের কাছে।  ২০১৯ সালেই এ বিষয়ে জৌহর আলি ট্রাস্টের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।  প্রশাসনের দাবি, তখন আজম খান জানিয়েছিলেন, কারা মসজিদ দুটি নির্মাণ করেছেন বা কীভাবে অর্থের ব্যবস্থা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই।  তাঁর বক্তব্য ছিল, কিছু মানুষ এসে মসজিদ তৈরি করে চলে গিয়েছেন, বর্তমানে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা নামাজ পড়েন।

এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত অর্থের উৎসও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।  তদন্তকারীরা নির্মাণ সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করছেন। প্রশাসনের দাবি, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রাস্তা নিয়েও নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে।  পূর্ত দপ্তরের অর্থে তৈরি হওয়ায় ওই রাস্তা সরকারি সম্পত্তি বলে দাবি প্রশাসনের। তাই সেটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে ‘আম রাস্তা‘ লেখা বোর্ডও বসানো হয়েছে।  যদিও রাস্তার এক প্রান্তের গেট এখনও বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা মোতায়েন আছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি অর্থে তৈরি রাস্তা কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখতে পারে না।

ভাঙার নির্দেশ জারির পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরে আজম খানের স্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ ড. তানজিন ফাতিমা ক্যাম্পাসে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতির বিরোধিতা করেন।  এরপর পুলিশকে ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থাও উদ্বেগের। এক শিক্ষক জানিয়েছেন, একসময় এখানে পাঁচ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করতেন।  তবে আজম খান জেলে যাওয়ার পর সেই সংখ্যা কমে প্রায় এক হাজার থেকে বারোশোতে নেমে আসে।  আর এবার ভাঙার নির্দেশ জারির পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও আরও কমে গেছে।  ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফাঁকাই ছিল বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।  সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিশানা করছে।  দলের মুখপাত্র জুহি সিং বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন যখন তৈরি হয়েছিল, তখন ওই এলাকা আরডিএ-র আওতায় ছিল না।  তাই এখন বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে ভাঙার নির্দেশ দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য।  তাঁর প্রশ্ন, যদি অনুমোদন না থাকাই একমাত্র কারণ হয়, তাহলে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কি একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “যে সরকার নিজেকে বিশ্বগুরু বলে দাবি করে, তারা একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেও সহ্য করতে পারছে না।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।