ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ২০ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বড় পর্দায় দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তর। যাতে সাধারণ মানুষ একসঙ্গে বসে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডে এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলা শাসক (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট)-কে বড় স্ক্রিনে লাইভ সম্প্রচারের সমস্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় স্ক্রিন বসানো হবে, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, বসার ব্যবস্থা এবং প্রচারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
এই আয়োজনের জন্য রাজ্য সরকার প্রতি জেলাকে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় বড় স্ক্রিন বসিয়ে ফাইনাল ম্যাচ দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ এই ঐতিহাসিক ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। একদিকে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, অন্যদিকে অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি এই দুই প্রজন্মের ফুটবল তারকার লড়াই দেখার জন্য ইতিমধ্যেই উৎসাহ তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এই ফাইনাল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে চলেছে।
কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বড় টুর্নামেন্টেই বিভিন্ন ক্লাব বা সংগঠনের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে এবার প্রথমবার রাজ্য সরকার নিজেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে জেলার সাধারণ মানুষও নিজেদের এলাকায় বসেই বিশ্বকাপ ফাইনালের পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জেলায় জেলায় ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রথম বড় পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে আরও বলা হয়েছে, খেলা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সময়মতো উপস্থিত হয়ে এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হতে পারেন। রাজ্যের সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সব জেলায় একযোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখানোর এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলেই মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ফলে ২০ জুলাই রাতের ফাইনাল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

