বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন উঠে এসেছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের এই সময়ে তিনি দলের মূল স্রোত থেকে সরে এসে বিদ্রোহী শিবিরের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। যদিও সায়নী ঘোষ এখনও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি, তবুও তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ সংসদে নিজেদের জন্য একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। খবর অনুযায়ী, এই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় সায়নী ঘোষের নাম যুক্ত হয়েছে। বিশেষ সূত্র দাবি করছে যে, বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থনে লোকসভার স্পিকারের কাছে যে নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে সায়নী ঘোষের স্বাক্ষরও রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি কলকাতার বাইরে দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং বিদ্রোহী সাংসদদের সাথেই তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। একই সাথে, তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ও দিল্লিতে পৌঁছে এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সায়নী ঘোষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সোচ্চার সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি দলের যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরের নেতা হিসেবে তুলে ধরতেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যেত। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই ২০ জন সাংসদ সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে এনডিএ কে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরনের ভাঙন ও বিদ্রোহের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
