নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এর দুই প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের আগে তাঁদের দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর প্রায় ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে তাঁরা আন্দোলনকারীদের দাবিসংবলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।
বৈঠকের পর সৌরভ দাস নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জানান, দিনের শুরুতেই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। তাঁর দাবি, জে.পি. নাড্ডা বিষয়টি সরকার ও দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গণহারে আন্দোলনকারীদের আটক করার খবরও তাঁদের কাছে পৌঁছেছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মূলত তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম দাবি , অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতাল বা পুলিশের হেফাজত থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি , নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
তৃতীয় দাবি , আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী নিট পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও মানসিক চাপে যেসব পরীক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন। টানা ২১ দিন অনশন চালানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

