Sonam Wangchuk Hunger Strike: “বিজেপির কেউই এখনও পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি”— অভিযোগ আন্দোলনকারীদের; ৮.৯ কেজি ওজন কমলেও অনশন ভাঙতে নারাজ সোনম ওয়াংচুক

অনশনের ১৮তম দিনে আরও অবনতি সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার। হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার দাবিতে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের প্রস্তুতি আন্দোলনকারীদের।

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
Sonam Wangchuk Hunger Strike
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

দিল্লির যন্তরমন্তরে চলতে থাকা অনির্দিষ্টকালের অনশনের ১৮তম দিনে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে পরিবেশকর্মী, সমাজকর্মী ও র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা।  আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘ অনশনের ফলে ইতিমধ্যেই তাঁর ৮.৯ কেজি ওজন কমেছে।  সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৭৬ রেকর্ড করা হয়েছে।  সংগঠনের দাবি, শরীরের পেশিশক্তি দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে এবং যে কোনও সময় গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।  তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও অনশন ভাঙতে রাজি নন ওয়াংচুক।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি।  তাঁর আবেদনে বলা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।  প্রয়োজনে তরল খাদ্য ও ভিটামিন দিয়ে তাঁর জীবন রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।  প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। বুধবারই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতৃত্বে NEET পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।  আন্দোলনের শুরু থেকেই সংহতি প্রকাশ করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক।  পরে তিনি ঘোষণা করেন, ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সন্তোষজনক জবাব না দিলে তিনি আমরণ অনশনে বসবেন।  সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া না মেলায় ২৮ জুন থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এতদিন কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি।  সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “বিজেপির কেউই এখনও পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি বা আমাদের সঙ্গে সংলাপে কোনও আগ্রহ দেখাননি।  আমরা কোনও পদ চাইছি না, শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ব নির্ধারণ চাইছি।” তাঁর অভিযোগ, সরকারের এই নীরবতাই আন্দোলনকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এদিকে সোনম ওয়াংচুকও নিজের অবস্থানে অনড়।  আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না।  বরং সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা কেন আলোচনায় বসতে চাইছে না।” তিনি নিজেকে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের অনুসারী বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সরকারের বিবেক জাগ্রত করতেই তিনি এই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।  সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ, অভিনেত্রী জিনাত আমন-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।  পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে, অনশনরত এআইএসএ কর্মী দীপকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।  চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আন্দোলনস্থলে আরও কয়েকজন কর্মী অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, NEET পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পরীক্ষা দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।  এই দাবিতে ২০ জুলাই, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।