সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ফেসবুকে একটি স্পষ্টীকরণমূলক পোস্ট করে বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের জন্য ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি বাধ্যতামূলক করা হয়নি এবং এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়া অন্যান্য জেলায় কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের প্রতি সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে চিকিৎসকদের ৯৬ ঘণ্টা টানা বা অতিরিক্ত ডিউটি করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি শুধুই একটি প্রশাসনিক অনুরোধ, কোনও বাধ্যতামূলক সরকারি আদেশ নয়।
পোস্টে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে ডিউটির সময় কোনও চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। কারণ, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণটা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্যই বরাদ্দ থাকা উচিত। সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিত থেকে রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার উপরই জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও কর্মনিষ্ঠা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের পর থেকেই ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই ফেসবুক পোস্ট করে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আদেশ প্রকাশিত হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, তাঁর বক্তব্য বা স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুরোধ নিয়ে যদি কোনও চিকিৎসকের মনে প্রশ্ন বা সংশয় থাকে, তাহলে তাঁরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি নিজের দুটি মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করেছেন ৯৮৩০০২৩৬৮৮ এবং ৯৮৩০২৭৪৯০১।

