বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই মামলায় সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি জনতাকে উস্কানি দেওয়ার মতো ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৫ জুলাই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ সামনে আসার পর সূর্যপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধসহ একাধিক অশান্তির ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনাগুলিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগেই লাহেক আলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, লাহেক আলির বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে। তদন্তে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
অন্যদিকে, এই গ্রেফতারের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিআই(এম)। তাঁদের দাবি, লাহেক আলি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত , লাহেক আলি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রেফতারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

