কাল, সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬’। সাধারণ মানুষের কাছে যা ইতিমধ্যেই ‘গুন্ডা দমন আইন’ নামে পরিচিত। নতুন এই আইন কার্যকর হওয়ার আগেই তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শনিবার পূর্ব বর্ধমানে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের প্রস্তুতি সভা থেকে আইনটিকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ শানালেন আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘গুন্ডামি করা লোকেরাই আজ গুন্ডা দমন আইন আনছে।’
বর্ধমান শহরে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সাংসদ কীর্তি আজাদ-সহ জেলা নেতৃত্বের একাধিক প্রতিনিধি। বৈঠকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ এবং কর্মসূচির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা একসময় গুন্ডামির রাজনীতি করেছেন, তাঁরাই এখন গুন্ডা দমন আইনের কথা বলছেন। এই আইনকে কেন্দ্র করে তিনি বিজেপির উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ করেন।
এদিন তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী এক বছর ব্যক্তিগত উপার্জনের কথা না ভেবে দলের কর্মী-সমর্থকদের আইনি লড়াইয়ে বিনা পারিশ্রমিকে পাশে থাকবেন। তাঁর দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজ্যজুড়ে বহু তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া এখন তাঁর অন্যতম দায়িত্ব।
এছাড়াও এদিন তিনি ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সমাবেশ নিয়ে হাইকোর্ট যে নির্দেশ দেবে, দল সেই নির্দেশ মেনেই কর্মসূচি পালন করবে।

