ইসরায়েলি হামলায় ঝরছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণ, গাজায় নিহত ৭৩ হাজার ৩৪৯; গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার প্রায় এক বছর হতে চললেও গাজা উপত্যকায় রক্তপাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।  ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহত মানুষের সংখ্যা।  গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হানাদার ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট প্রাণ হারিয়েছে ৭৩ হাজার ৩৪৯ জন ফিলিস্তিনি।  আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জনের বেশি।  ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

সর্বশেষ রোববার (২ আগস্ট) গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৭৬ জন আহত হয়েছেন।  পৃথক হামলায় আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।  তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২২২ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন।  ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে।  এর ফলে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের জুলাই মাস গাজার জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাসগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।  গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই অন্তত ১৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  নিহতদের মধ্যে ২১ জন শিশু, ১৪ জন নারী এবং ৪ জন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন।  মন্ত্রণালয়ের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ইসরাইল বিমান ও গোলাবর্ষণ করেই চলেছে , যার কারণেই বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে গাজার মানবিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে ইসরাইল।  হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবনের বড় একটি অংশ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।  জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়ন বলছে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।  গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।  এর পরদিন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে।  তবে সেই পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

হামাস জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করে সেনা প্রত্যাহার করলে তবেই তারা অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে এগোবে।  অন্যদিকে, ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেছেন, হামাসের ‘সম্পূর্ণ ও কার্যকর নিরস্ত্রীকরণ‘ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা সরানো হবে না।ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এর ফলে, গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়ে উঠেছে।  খাদ্য, বিশুদ্ধ জল, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকটের পাশাপাশি লাখো মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।  আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসলেও, কোনোরকম পরিবর্তন এখনো দেখা যাচ্ছে না।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।