সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের নিয়মে এবার বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন আধার বা ভোটার কার্ড দেখিয়েই সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় সফর করা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে পিঙ্ক কার্ড। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্য মহিলা যাত্রীদের এই কার্ড দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই কার্ড দেখিয়েই সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা মিলবে।
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের অনেকের হাতেই কার্ড পৌঁছে গিয়েছে। সেই কার্ড সরকারি বাসে ব্যবহার করা যাবে। যদিও এখনও সব আবেদনকারীর হাতে কার্ড পৌঁছায়নি। তাই প্রথম দিকে ধাপে ধাপেই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রকল্প চালুর সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারকে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা নিজের ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, তাঁদের এই সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মূলত আর্থিকভাবে প্রয়োজন রয়েছে এমন মহিলাদের জন্যই পিঙ্ক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিভাবে আবেদন করবেন
পিঙ্ক কার্ডের জন্য অনলাইন ও অফলাইন— দুইভাবেই আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে রাজ্য সরকারের নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে নাম, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারীর হাতে পিঙ্ক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যাঁরা অফলাইনে আবেদন করতে চান, তাঁরা গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা হলে সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসে এবং শহর বা পুর এলাকার বাসিন্দা হলে সংশ্লিষ্ট পুরসভায় আবেদন করতে পারবেন। নথি যাচাইয়ের পর তাঁদেরও পিঙ্ক কার্ড দেওয়া হবে।
পরিবহণ দফতরের দাবি, পিঙ্ক কার্ড চালু হলে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের পুরো ব্যবস্থাটি আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে। পাশাপাশি প্রকৃত উপভোক্তারাই এই সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করাও সহজ হবে। তবে যাঁদের হাতে এখনও কার্ড পৌঁছায়নি, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কার্ড বিতরণের কাজ ধাপে ধাপে চলবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।

