এখন সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে, “UPI তে টাকা পাঠালে কি এবার এক্সট্রা টাকা কাটবে?” লোকসভায় ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন’ সংশোধন হতেই আমজনতার মনে তীব্র আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। তবে এবারে এই নিয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা উড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিরাট স্বস্তি দিল মোদি সরকার।
সরকারের তরফে জানায়, সাধারণ ইউপিআই ইউজারদের লেনদেনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না বা টাকা দিতে হবে না। মানে আপনি আপনার বন্ধু, পরিবার বা পরিচিত কাউকে পার্সোনাল লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পাঠালে বা তাদের থেকে টাকা গ্রহণ করলে আগের মতোই এক পয়সাও এক্সট্রা চার্জ দিতে লাগবে না। এমনকি পাড়ার মুদিখানা, চায়ের দোকান, সবজি বিক্রেতা কিংবা অটোওয়ালাদের কিউআর কোড স্ক্যান করে দৈনিক কেনাকাটা করার ক্ষেত্রেও এই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। সাধারণ মানুষের পকেট পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখেই এই নতুন আইনি পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানায়।
তবে এই ফ্রি পরিষেবার পেছনে ব্যাংক ও ফিনটেক কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়। সেই পরিকাঠামোগত খরচ তুলতে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা না চাপিয়ে বড় বড় কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক ব্যবসার ওপর নজর দিয়েছে সরকার। নতুন আইন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ অঙ্কের বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর একটি নামমাত্র মার্চেন্ট ফি বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বসানো হতে পারে। এরজন্য লোকাল ক্রেতা বা কাস্টমারকে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে না টাকা। শপিং মল, বড় শোরুম বা নামী অনলাইন ব্র্যান্ডগুলোর লভ্যাংশ থেকে ব্যাংক বা ইউপিআই ইকোসিস্টেম এই টাকা কেটে নেবে।
জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ভারতে ইউপিআই লেনদেনের ওপর সব রকম চার্জ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল এবং প্রতিদিন কোটি কোটি ট্রানজ্যাকশনের চাপে প্রায়ই সার্ভার ডাউন বা টাকা আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। লোকসভায় পাস হওয়া এই নতুন বিলের মূল লক্ষ্য হলো একটি সুনির্দিষ্ট রাজস্ব মডেল তৈরি করা, যাতে ব্যাংকগুলো আরও উন্নত এবং দ্রুতগতির সার্ভার তৈরি করতে পারে।
