মুসলিম IAS অফিসার ফৌজিয়া তারানুমকে ‘পাকিস্তানি’ বলে কটাক্ষ করায় কর্ণাটকের বিজেপি MLC এন রবিকুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দেয় , কেবলমাত্র তাঁর কাজকর্ম পচ্ছন্দ না হলে সমালোচনা করতে পারা যায় তবে ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরে কাউকে অন্য দেশের নাগরিক বলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে কালাবুরাগিতে বিজেপির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় কালাবুরাগির তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ফৌজিয়া তারানুমের কাজকর্ম নিয়ে তোপ দাগেন বিজেপি নেতা এন রবিকুমার। ওই নারী আইএএস অফিসার মুসলিম হওয়ায় রবিকুমার বলেন, “তিনি মনে হয় পাকিস্তান থেকে এসেছেন“। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে আইএএস অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং রবিকুমারের বিরুদ্ধে থানায় সাম্প্রদায়িক উসকানির মামলা দায়ের করে।
আইনের হাত থেকে বাঁচতে বিজেপি নেতা রবিকুমার মামলা বাতিলের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের মে মাসে অবকাশকালীন বেঞ্চের শুনানিতে বিচারপতি সূর্য গোবিন্দরাজ বিজেপি নেতাকে সরাসরি ওই অফিসারের কাছে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রবিকুমারের আইনজীবী দাবি করেন যে তাঁর মক্কেল ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে যে শুধু দায়সারা ক্ষমা চাইলেই অপরাধ হালকা হয়ে যায় না।
গতকাল এই মামলাটি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার জন্য ওই বিজেপি নেতা আবারও আদালতে আবেদন করেন। তবে বিচারপতি মামলা তুলে না নিয়ে উল্টো কড়া জবাব দিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র একজন সরকারি অফিসার মুসলিম বলেই তাঁকে আপনি ‘পাকিস্তানি’ বলতে পারেন না। তিনি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার। নেতাদের কথা বলার সময় তাঁদের মুখের ভাষা বা জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।” এ দিন কোর্ট পরিষ্কার বলে, নেতারা মুখে যা আসবে তা-ই বলবেন আর সেই মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা হতে পারে না। এই ঘটনার পুরো তদন্ত করবে পুলিশ।
