বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েনের আবহ তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ১০ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁদের মধ্যে এই বৈঠক হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সাক্ষাৎ ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
গত জুন মাসে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের সঙ্গে এটাই দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকের পরও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ‘খুবই ভালো’ হয়েছে। দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ভারতীয় হাইকমিশনার।
দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী দীনেশ। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এমন কোনও ইস্যু নেই, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য বা বিভিন্ন ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা।
ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়। তাঁর কথায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরি করাই লক্ষ্য।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারতের আমন্ত্রণ আগেই রয়েছে। ভারতীয় জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে দীনেশ বলেন, দুই দেশের যে ইতিহাস রয়েছে, তা বদলানো সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশকেও বদলানো যায় না। দুই দেশ শুধু সীমান্ত ভাগ করে নেয় না, বরং নিজেদের স্বপ্নও ভাগ করে নেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফের উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ঢাকা থেকে আপত্তিও জানানো হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ছবি সামনে এল।
পরপর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠককে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ফের স্বাভাবিক পথে নিয়ে যেতে এই ধরনের সরাসরি আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।

