এবার রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। কেন মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে এবং কোন আইন বা সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মাইক খোলার নির্দেশের আইনি ভিত্তি জানতে চেয়ে আইনজীবী দানিশ ফারুকী একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন। তাঁর আবেদনে রাজ্যের তরফে ধর্মীয় স্থানে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলাকারীর মূল প্রশ্ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি মাইক খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্দেশের লিখিত নথি কোথায় এবং কোন আইন বা বিধির আওতায় এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
সোমবার বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে উল্লেখ করেন সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের একটি আগের নির্দেশ রয়েছে। তাই বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এর পর দানিশ ফারুকির দায়ের করা মামলা গ্রহণের অনুমতি দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার মামলাটির শুনানি হতে পারে।
অন্যদিকে, মসজিদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবদুল সামাদ নামে এক ব্যক্তি।
আগামী ১১ অগস্ট, মঙ্গলবার মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মিছিলটি রাজাবাজার থেকে শুরু হয়ে শিয়ালদহ হয়ে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত যাওয়ার কথা। মিছিলের অনুমতি চেয়ে করা মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে।
মাইক খোলা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় মূল প্রশ্ন উঠেছে, কোন আইন বা সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে? মামলাকারীদের দাবি, যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্দেশের লিখিত নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন আইন বা বিধির ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।

