‘বন্দে মাতরম’ কেন এতদিন ছিল না লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে? এবার বদলাচ্ছে রীতি

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
সংগৃহীত
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

আগামী ১৫ অগস্ট দেশের স্বাধীনতা দিবস। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই দিন দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।  জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর পরিবেশিত হয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’।  তবে এবার ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘদিনের রীতিতে পরিবর্তন আসতে চলেছে।  এবার লালকেল্লার মূল অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’ এর আগে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে অনুষ্ঠানের নতুন সূচি সম্পর্কে এই তথ্য জানানো হয়েছে।  এতদিন স্বাধীনতা দিবসের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়মিতভাবে পরিবেশিত না হওয়ার পিছনে রয়েছে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া আনুষ্ঠানিক রীতি।  ভারত প্রজাতন্ত্র হওয়ার পর জনগণমন কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।  সেই অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের একটি নির্দিষ্ট প্রথা তৈরি হয়।  লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও সেই রীতিই এতদিন অনুসরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘বন্দে মাতরম’কে দেওয়া হয়েছে জাতীয় গানের মর্যাদা।  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।  ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিল।  স্বাধীনতার পরও দেশের জাতীয় জীবনে গানটির গুরুত্ব বজায় থাকে।  তবে গানটির কিছু অংশে ধর্মীয় ভাবনার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা ছিল।

১৯৩৭ সালে ‘বন্দে মাতরম’ এর প্রথম দুটি স্তবককে সর্বজনগ্রাহ্য অংশ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে মূলত এই অংশই গাওয়া হয়ে এসেছে।  স্বাধীনতার পর জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ‘জনগণমন’কে গ্রহণ করার ফলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় ‘বন্দে মাতরম’ আলাদা জায়গা পায়।  ফলে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’ থাকলেও ‘বন্দে মাতরম’ এতদিন নিয়মিত অংশ ছিল না।  এখানে ‘জনগণমন’ ও ‘বন্দে মাতরম’ এর মর্যাদার পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণমন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত, আর ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গান।  দুটো গানই দেশের কাছে বিশেষ সম্মানের হলেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা পৃথক।  সেই কারণেই এতদিন লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ক্রমে জাতীয় সঙ্গীতই প্রধান স্থান পেয়েছে।

তবে এবার সেই প্রথায় পরিবর্তন এনেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।  নতুন সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে।  এরপর গাওয়া হবে ‘জনগণমন’।  অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীত দুটোই পরপর শোনা যাবে।

২০২৬ সাল বন্দে মাতরমএর জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।  চলতি বছর এই গান রচনার ১৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে।  ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গানটির অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বন্দে মাতরম এর ভূমিকা এবং দেশের জাতীয় চেতনায় গানটির অবস্থানকে সামনে রেখেই এবারের অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।