বাংলাদেশের রংপুরে একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-সহ একই পরিবারের চারজনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশ। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে সেখানকার পুলিশ।
রবিবার ভোরে বাংলাদেশের রংপুর জেলার মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সম্পর্কে তারা মামাতো ভাই। মুগ্ধ রংপুর নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। অন্যদিকে, সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাশের একটি ভবনের উপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল বলে অভিযোগ। শব্দ শুনে ছাদে গিয়ে তাঁদের বাধা দেন গণপতি। এরপর তাঁকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর বাড়ির ভিতরে থাকা মেয়ে পার্থী এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেই শিশুটিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
ঘটনার পরও কিছু সময় ওই বাড়িতেই ছিল অভিযুক্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সেখানে গোসল করে, খেজুর খায় এবং ইয়াবা সেবন করে। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি।
এছাড়াও বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল । আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি এবং কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক ব্যক্তির নামও সামনে এসেছে। তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং লুট করা সামগ্রী নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রংপুর মহানগর পুলিশ।

