বেঙ্গালুরুতে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ফলে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে সরব দক্ষিণী অভিনেতা প্রকাশ রাজ। কর্নাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এর কাজ চলার মধ্যেই এমন অভিযোগ করলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ রাজের প্রশ্ন, যে শহরে তাঁর জন্ম, পড়াশোনা এবং অভিনয়জীবনের শুরু, সেই শহরের ভোটার তালিকাতেই কী ভাবে তাঁর নাম থাকে না? শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। ফলে এবার সেই কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে ঘটনাটিকে ‘মজার খেলা’ বলে কটাক্ষ করলেন অভিনেতা।
সম্প্রতি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্স এ পোস্ট করা একটি ভিডিয়োয় নিজের বক্তব্য জানান অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তাঁর দাবি, SIR এর পর বেঙ্গালুরুর বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই তালিকায় তাঁর নামও রয়েছে। তবে নিজের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ না তুলে, বরং গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি।
প্রকাশ রাজের বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সম্পর্ক বহু পুরনো। এই শহরেই তাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। পড়াশোনার পাশাপাশি থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অভিনয়জগতে প্রতিষ্ঠা পান। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এখন সেই বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকাতেই তাঁর নাম নেই এই বিষয়টিকেই ব্যঙ্গের সুরে তুলে ধরেছেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, নিজের ভোটার পরিচয় ফিরে পেতে এবার কী কী নথি দিতে হবে এবং কী ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, সেটাও তিনি দেখবেন।
SIR এর মাধ্যমে মূলত ভোটার তালিকার তথ্য নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। ভোটার মারা গিয়েছেন কি না, অন্যত্র স্থায়ী ভাবে চলে গিয়েছেন কি না, একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে কি না এমন একাধিক বিষয় যাচাইয়ের আওতায় আসে। এই প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য বা অযোগ্য নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশ রাজের অভিযোগের সময়ে তাঁর ভোটার কার্ড নিয়ে সাম্প্রতিক আইনি জটিলতার প্রসঙ্গও সামনে আসছে। এর আগে একাধিক ভোটার কার্ড থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। মূলত কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে তাঁর নামে ভোটার কার্ড থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় আদালতের পরোয়ানার পর শর্তসাপেক্ষে জামিনও পেয়েছেন অভিনেতা।
ফলে একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ভোটার কার্ড থাকার অভিযোগ এবং SIR-এর পরে নিজের নাম ভোটার তালিকায় না থাকার দাবি দুটি বিষয় নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে SIR এর তালিকা থেকে তাঁর নাম ঠিক কী কারণে বাদ পড়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট না করলে জানা যাবেনা।
কর্ণাটকের পাশাপাশি বাংলাতেও SIR ঘিরে বিতর্ক বেশ কয়েকমাস ধরে চলছে। খসড়া থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পর্যন্ত প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত ও ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম রয়েছে। প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। এর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এই ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৭ লক্ষ নামের কাজ বাকি রয়েছে, যদিও আপিল প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দেন।

