পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (S I R) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার বেনজির প্রশ্ন তুলে দিলেন দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন ফালি নরিম্যান। তাঁর প্রশ্ন, এত বিপুল সংখ্যক নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরও দেশের সর্বোচ্চ আদালত কেন এই প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিল না?
সম্প্রতি গুজরাটের রাজকোটের রাজকুমার কলেজে ‘সংবিধান এবং সাধারণ মানুষ’ শীর্ষক একটি স্মারক বক্তৃতায় অংশ নিয়েছিলেন বিচারপতি নরিম্যান। সেখানেই বাংলার ভোটার তালিকা ও দেশের নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
বিচারপতি নরিমান তাঁর বক্তৃতায় অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এটা একটা অত্যন্ত ভয়ানক এবং অবিশ্বাস্য সংখ্যা। এত বড় একটা কাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরেও সুপ্রিম কোর্ট কেন এই এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে কোনো পদক্ষেপ করল না, তা আমাকে বিস্মিত করেছে।”
তিনি আরও জানান, নাম বাদ পড়ার পর বাংলার প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে আপিল বা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে যে ১ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তার ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাঁরাই সঠিক এবং বৈধ ভোটার।
প্রাক্তন বিচারপতির যুক্তি, যদি আবেদনকারীদের ৯৩ শতাংশেরই নাম ভুলভাবে কাটা হয়ে থাকে, তবে বাকি যারা আইনি লড়াই লড়ার সুযোগ পাননি, তাঁদের অবস্থা কী হয়েছে? তাঁর কথায়, “সব সাধারণ মানুষের তো আর আদালতে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য বা ক্ষমতা থাকে না। এর থেকেই পরিষ্কার যে, একটি নির্দিষ্ট সরকার যাতে নিজের ফায়দা তুলতে পারে, তার জন্য দেশের সাধারণ নাগরিকদের সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তালিকা থেকে নক-আউট করা হয়েছে।”
ভোটার তালিকার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিতর্কিত আইনটি নিয়েও সরব হয়েছেন বিচারপতি নরিম্যান। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে— প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI)-কে নিয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করবে। কিন্তু পরে কেন্দ্রীয় সরকার আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সেখানে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ঢুকিয়ে দেয়।
নরিম্যান আরও বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের হাতই ওপরের দিকে থাকে, তবে সেই কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।” তিনি জানান, এই আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে, দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে তার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।
যদিও বিচারপতি নরিম্যানের এই বিস্ফোরক দাবির পর স্বভাবতই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এই পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এবং পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছিল।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
